Home Bangladesh আইএইচটি সিলেটে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত

আইএইচটি সিলেটে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস পালিত

by Londonview24
0 comment

বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সিলেটে পালিত হয়েছে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি (আইএইচটি), সিলেটের ফিজিওথেরাপি বিভাগের উদ্যোগে র‌্যালি, সেমিনার, আলোচনা সভা ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর ১টায় আইএইচটি,শাহী ঈদগাহস্ত সিলেট ক্যাম্পাস থেকে বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবস উপলক্ষে একটি র‌্যালি বের করা হয়। র‌্যালিটি শাহী ঈদগাহ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আইএইচটি ক্যাম্পাসে এসে শেষ হয়। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
র‌্যালি শেষে আইএইচটি, সিলেট ক্যাম্পাসের মিলনায়তনে দিবসটি উপলক্ষে একটি সায়েন্টিফিক সেমিনার ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
এবারের বিশ্ব ফিজিওথেরাপি দিবসের প্রতিপাদ্য “হৃদরোগ ও স্ট্রোকের প্রতিরোধ, ব্যবস্থাপনা ও পুনর্বাসনে শারীরিক সক্রিয়তা ও ফিজিওথেরাপি চিকিৎসার ভূমিকা।”
তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুহিবুর রহমান ও মিথি ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইএইচটি, সিলেটের অধ্যক্ষ ডা. মোয়াজ্জেম আলী খান চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিফ ফিজিওথেরাপিস্ট মো. জহিরুল ইসলাম, ফিজিওথেরাপিস্ট মো. আলমগীর হোসেন, আল-হারামাইন হাসপাতালের ফিজিওথেরাপিস্ট সুব্রত কুমার সিনহা, প্রয়াস সিলেট ক্যান্টনমেন্টের ফিজিওথেরাপিস্ট সুমন আহমেদ এবং আইএইচটি, সিলেটের লেকচারার (ল্যাব মেডিসিন বিভাগ) মো. আলমগীর আলম।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী বুহেল খান ও মেঘলা আক্তার এবং প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী রাবেয়া, মিনহাজ ও শুভ আহমেদ।
বক্তারা বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত সময়োপযোগী। হৃদরোগ ও স্ট্রোক বর্তমানে বিশ্বব্যাপী অন্যতম বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১৯ দশমিক ৮ মিলিয়ন মানুষ কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজের কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন, যা মোট বৈশ্বিক মৃত্যুর প্রায় ৩২ শতাংশ। এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশ হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের কারণে ঘটে।
বক্তারা আরও জানান, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১২ মিলিয়ন নতুন স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে এবং ৭ মিলিয়নেরও বেশি মানুষ স্ট্রোকে মৃত্যুবরণ করেন। শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, অতিরিক্ত ওজন, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, ধূমপান ও অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, হৃদরোগ ও স্ট্রোক প্রতিরোধে নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে ফিজিওথেরাপির ভূমিকা শুধু রোগের পর পুনর্বাসনে সীমাবদ্ধ নয়; বরং রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সংরক্ষণ, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সক্রিয় জীবনযাপন নিশ্চিত করতেও ফিজিওথেরাপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেতাঁরা বলেন, ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও চিকিৎসাগত অবস্থা বিবেচনা করে অ্যারোবিক এক্সারসাইজ, স্ট্রেংথেনিং এক্সারসাইজ, ফ্লেক্সিবিলিটি এক্সারসাইজ ও ফাংশনাল ট্রেনিং পরিকল্পনা করা যায়। হৃদরোগের পর কার্ডিয়াক রিহ্যাবিলিটেশন এবং স্ট্রোকের পর ব্যক্তিকেন্দ্রিক রিহ্যাবিলিটেশন প্রোগ্রামের মাধ্যমে রোগীর কর্মক্ষমতা, স্বাধীনতা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত করা সম্ভব।
বক্তারা ফিজিওথেরাপিকে শুধু হাসপাতালভিত্তিক চিকিৎসাসেবার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রিভেন্টিভ হেলথকেয়ার, প্রাইমারি হেলথকেয়ার ও কমিউনিটি-বেইজড রিহ্যাবিলিটেশনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, “ফিজিওথেরাপি শুধু মুভমেন্ট ফিরিয়ে দেয় না; এটি মানুষের স্বাধীনতা, আত্মবিশ্বাস ও উন্নত জীবনযাপনের সক্ষমতা ফিরিয়ে দেয়।”
সেমিনারে ফিজিওথেরাপি শিক্ষার্থীদের এভিডেন্স-বেইজড প্র্যাকটিস, গবেষণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়।
প্রতিরোধে ফিজিওথেরাপি, পুনর্বাসনে ফিজিওথেরাপি—উন্নত জীবনের জন্য ফিজিওথেরাপি।

You may also like

Leave a Comment