Home BangladeshSylhet জেলা প্রশাসকের কাছে বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের স্মারকলিপি প্রদাননির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়নপ্রকল্পের ৪ লেনের কাজ সম্পন্ন করার নিশ্চিয়তা প্রদান

জেলা প্রশাসকের কাছে বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের স্মারকলিপি প্রদাননির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়নপ্রকল্পের ৪ লেনের কাজ সম্পন্ন করার নিশ্চিয়তা প্রদান

by Londonview24
0 comment

সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করার দাবী জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ২টায় সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম এর হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন নেতৃবৃন্দ। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবরেও আরেকটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক নেতৃবৃন্দকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিয়তা প্রদান করেন।
স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন বিয়ানীবাজার জনকল্যাণ সমিতি সিলেটের সভাপতি ডা. এম ফয়েজ আহমদ, সহ সভাপতি এডভোকেট এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট জোবায়ের আহমদ খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল আহাদ, অর্থ বিষয়ক সম্পাদক কবির আহমদ সিদ্দিকী, শিক্ষা ও পাঠাগার বিষয়ক সম্পাদক আজমল হোসেন চৌধুরী ওয়েস, দপ্তর বিষয়ক সম্পাদক মো. রাজ্জাকুজ্জামান চৌধুরী, সদস্য ইসমত ইবনে ইসহান সানজিদ, শহিদুল হাসান, মাহবুব আহমদ মুক্তা, বীর মুক্তিযোদ্ধ মো. ময়নুল ইসলাম, আবুল ফজল মো. আরিফ প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়- প্রায় পৌনে তিন লক্ষ মানুষ অধ্যুষিত প্রাচীন জনপদ বিয়ানী বাজারে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম স্থলপথ। পার্শ্ববর্তী বড়লেখা উপজেলার শাহবাজপুর পর্যন্ত রেল যোগাযোগ কাঠামো থাকলেও বিয়ানীবাজারে কোন রেলপথ নেই। সুরমা-কুশিয়ারা নদীযুগল এই উপজেলার নৌপরিবহনে একসময় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও বর্তমান দ্রুতপতির যুগে নৌপথ অনেকটা অব্যবহৃত। ফলে সিলেট-চারখাই-শেওলা সড়কটি বিয়ানীবাজার এবং নিকটবর্তী গোলাপগঞ্জ, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ বড়লেখা উপজেলার অধিবাসীদের বিভাগীয় নগরী সিলেটের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনি প্রেক্ষাপটে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (ইসিএনইসি) এর ১১ এপ্রিল ২০২৩ তারিখে অনুষ্ঠিত সভায় সিলেট-চারখাই- শেওলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প নামে একটি পরিকল্পনা গৃহীত হলে বিয়ানীবাজার ও পার্শ্ববর্তী এলাকার সাধারণ মানুষ নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করতে থাকে প্রকল্প বাস্তবায়নেরর। সিলেট থেকে সুতারকান্দি পর্যন্ত ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়ককে চারলেনের মহাসড়কে উন্নীত করণের লক্ষ্যে ৪ হাজার ২৫৭ কোটি টাকা প্রাক্কলিত ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। যার মধ্যে বিশ্বব্যাংকের ঋণ হলো ২ হাজার ৮৮৬ কোটি ৮২ লক্ষ টাকা। প্রকল্পের অধীনে অতিরিক্ত ২টি সার্ভিসলেন, ৩টি সেতু, ৩১টি কালভার্ট, ১টি ফ্লাইওভার, ০৪টি ফুট ওভারব্রিজ, ৬টি ওভারপাস, ২টি আন্ডারপাস, ৭টি ফুটপাত ও ১টি টোলপ্লাজা স্থাপনের কথা। বিশেষ করে কুশিয়ারা নদীর উপর শেওলা সেতুর স্থলে ৬০ মিটার দীর্ঘ, ২১ মিটার প্রশস্ত, ৪০ মিটার উঁচু নতুন একটি সেতু নির্মাণের নকশা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে এই প্রস্তাবে। সম্পূর্ণ কর্ম পরিকল্পনা সম্পাদনের সর্বশেষ তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ ধার্য্য  করে। ২৪৭.১৩ একর ভূমি অধিগ্রহণের লক্ষে স্থির করা হয়। গৃহীত প্রকল্পটির কাজ ২০২৩ সাল থেকে শুরু হলেও গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ না করা, মহাসড়ক নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন এবং অজ্ঞাত অন্যান্য কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মাঝামাঝি এসে প্রকল্পের বাস্তবায়ন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান ২৪টি স্থলবন্দরের মধ্যে বর্তমানে চালু থাকা ১৬টির অন্যতম শেওলা স্থলবন্দর সিলেট-চারখাই-শেওলা মহাসড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত। উক্ত স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ থেকে প্রধানত সিমেন্ট রপ্তানি হয়ে থাকে। তাছাড়াও প্রাণ ও সজীব গ্রুপের পণ্য সামগ্রী ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সুতারকান্দি সীমান্ত পথ দিয়ে প্রেরিত হয়। তার বিপরীতে ভারত থেকে পাথর, চুনাপাথর ও ফল আমদানীর রুট হচ্ছে শেওলা স্থলবন্দর। প্রতিদিন গড়ে দুইশত ট্রাক চলাচল করে উক্ত সড়কে। এই ধরনের একটি সম্ভাবনাময়, জন আকাঙ্খিত প্রকল্প অযৌক্তিক অজুহাতে এবং অজানা মহলের অপতৎপরতায় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশংকা সৃষ্টি হওয়ায় আমরা এর প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং সকল প্রকার বাধাবিঘ্ন অপসারণক্রমে বিশেষ করে পূর্ববর্তী জেলা প্রশাসক মহোদয়ের ০৮-০৫-২০২৫ তারিখের রেজুলেশন প্রত্যাহারক্রমে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন করার জন্যে মাননীয় জেলা প্রশাসক বরাবরে জোরালো দাবী জানান।

You may also like

Leave a Comment