
সরকারের প্রস্তাবিত “ফ্যামিলি কার্ড” কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আসবে, বাড়বে কেনাকাটা এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান।
বুধবার (২৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য আপনার আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের হাতে যে অর্থ পৌঁছাবে, তা সরাসরি স্থানীয় বাজারে ব্যয় হবে এবং এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতে।
তারেক রহমান জানান, নির্বাচনের আগে জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছে এবং ইতোমধ্যে জনগণের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, একসাথে ৪ কোটি পরিবারকে এই কার্ড দেওয়া সম্ভব নয়, তাই ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রথম পর্যায়ে অগ্রাধিকার পাবে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলো।তিনি আরও বলেন, প্রতিটি পরিবারের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত উপকারভোগীরা এই সুবিধা পান। একই সঙ্গে বর্তমানে চালু থাকা বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির মধ্যে যেখানে একই ব্যক্তি একাধিক সুবিধা পাচ্ছেন, সেসব ক্ষেত্রে সমন্বয় করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা টাকা ছাপিয়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছি না। বরং আমরা মনে করি, এটি মূল্যস্ফীতি কমাতে সহায়ক হবে।তিনি ব্যাখ্যা করেন, ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে পাওয়া অর্থ মানুষ মূলত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে ব্যয় করবে, যার বেশিরভাগই দেশীয়ভাবে উৎপাদিত।
তিনি বলেন, যখন গ্রামে অনেক পরিবার একসঙ্গে এই সহায়তা পাবে, তখন তারা স্থানীয় দোকান থেকে বেশি করে পণ্য কিনবে। এতে দোকানগুলোর বিক্রি বাড়বে, ব্যবসা সম্প্রসারণ হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচিকে একটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় শিল্প-কারখানা শক্তিশালী হবে এবং ধীরে ধীরে দেশের অর্থনীতি তৃণমূল পর্যায়ে আরও মজবুত হবে।